मुख्य सामग्री पर जाएं
হনুমান

শ্রী হনুমান চালীসা — বাংলা লিরিক্স, অর্থ ও PDF

Hanuman Chalisa in Bengali

সংকটমোচন শ্রী হনুমানজীর অপার শক্তি, বুদ্ধি ও ভক্তির মহিমান্বিত স্তোত্র — নিত্য পাঠে দূর হয় সকল ভয়, রোগ, শত্রুবাধা ও জাগতিক সংকট।

গোস্বামী তুলসীদাস7 মিনিট পাঠ

শ্রী হনুমান চালীসা সম্পূর্ণ পাঠ

দোহা এবং ৪০টি চৌপাই সহজ বাংলা অর্থ সহ

প্রারম্ভিক দোহা

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজ মনু মুকুরু সুধারি।

বরনউ রঘুবর বিমল জসু জো দায়কু ফল চারি॥

ভাবার্থ: শ্রী গুরুদেবের চরণকমলের পবিত্র ধূলি দ্বারা আমার মনের দর্পণকে পরিমার্জিত ও শুদ্ধ করে, আমি রঘুকুলশ্রেষ্ঠ শ্রীরামচন্দ্রের সেই নির্মল যশোমহিমা কীর্তন করছি, যা মানবজীবনের চারটি পরম প্রাপ্তি—ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ প্রদান করে।

বুদ্ধিহীন তনু জানিকৈ সুমিরৌ পবনকুমার।

বল বুধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার॥

ভাবার্থ: নিজেকে শক্তি ও বোধহীন জেনে আমি পবনপুত্র শ্রীহনুমানজীর ধ্যান ও স্মরণ করছি। হে প্রভু, আপনি আমাকে শারীরিক শক্তি, সদ্বুদ্ধি ও দিব্য বিদ্যা প্রদান করুন এবং আমার সকল দুঃখ, মানসিক ক্লেশ ও ত্রুটিসমূহ হরণ করুন।

চৌপাই

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর।

জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর॥

ভাবার্থ: জ্ঞান ও গুণের অনন্ত মহাসমুদ্র হে হনুমানজী, আপনার জয় হোক! ত্রিলোক জুড়ে আপনার যশ ও মহিমা যিনি উদ্ভাসিত করেছেন, সেই কপীশ্বর কপিরাজ আপনার জয় হোক!

রামদূত অতুলিত বলধামা।

অঞ্জনীপুত্র পবনসুত নামা॥

ভাবার্থ: আপনি শ্রীরামচন্দ্রের পরম বিশ্বস্ত দূত এবং অতুলনীয় মহাশক্তির আধার। আপনি মাতা অঞ্জনাদেবীর পুণ্য সন্তান এবং পবনপুত্র নামে নিখিল বিশ্বে সমাদৃত।

মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।

কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী॥

ভাবার্থ: হে পরম পরাক্রমী মহাবীর বজরঙ্গবলী! আপনার শ্রীঅঙ্গ বজ্রের ন্যায় সুদৃঢ়। আপনি ভক্তদের কুৎসিত বুদ্ধি ও কুভাবনা দূর করে সদ্বুদ্ধি ও সৎপথের সঙ্গী করে তোলেন।

কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেসা।

কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেসা॥

ভাবার্থ: আপনার গাত্রবর্ণ কাঁচা সোনার মতো সমুজ্জ্বল ও শ্রীমণ্ডিত, আপনি মনোহর দিব্য পোশাকে শোভিত। আপনার দুই কর্ণে শোভা পাচ্ছে উজ্জ্বল কুণ্ডল এবং কেশকলাপ অপূর্ব কুঞ্চিত।

হাথ বজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।

কান্ধে মূঞ্জ জনেঊ সাজৈ॥

ভাবার্থ: আপনার পবিত্র হস্তে বিরাজ করছে মহাশক্তিধর বজ্র (গদা) এবং ধর্মবিজয়ের জয়পতাকা। আপনার স্কন্ধে শোভাবর্ধন করছে পবিত্র মুঞ্জতৃণ নির্মিত যজ্ঞোপবীত (পৈতে)।

শংকর সুবন কেসরী নন্দন।

তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥

ভাবার্থ: আপনি দেবাদিদেব মহাদেবের রুদ্রাবতার এবং বানররাজ কেশরীর প্রিয় নন্দন। আপনার অতুল তেজ ও অসীম প্রভাবকে সমগ্র বিশ্ব পরম ভক্তিভরে বন্দনা করে।

বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর।

রাম কাজ করিবে কো আতুর॥

ভাবার্থ: আপনি সমস্ত বিদ্যায় পারদর্শী, অনুপম গুণসম্পন্ন এবং পরম বিচক্ষণ। প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের যেকোনো সেবাকাজ সম্পন্ন করতে আপনি সদা ব্যগ্র ও তৎপর।

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।

রাম লখন সীতা মন বসিয়া॥

ভাবার্থ: প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের পবিত্র লীলাগাথা শ্রবণ করতে আপনি নিরন্তর আনন্দমগ্ন থাকেন। শ্রীরাম, লক্ষণ ও জানকীমাতা আপনার ভক্তিময় হৃদয়ে সদা বিরাজ করেন।

সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হিঁ দিখাবা।

বিকট রূপ ধরি লংক জরাবা॥

ভাবার্থ: অশোকবনে মাতা সীতার সম্মুখে আপনি পরম বিনম্র ক্ষুদ্র রূপ ধারণ করে দর্শন দিয়েছিলেন, এবং পরবর্তীতে রঘুপতির শক্তি প্রদর্শনে এক বিরাট বিকট রূপ ধরে লঙ্কাপুরী ভস্মীভূত করেছিলেন।

ভীম রূপ ধরি অসুর সংহারে।

রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥

ভাবার্থ: যুদ্ধক্ষেত্রে আপনি বিশাল ভীমকায় রূপ ধারণ করে দুর্ধর্ষ অসুরদের সংহার করেছিলেন, এবং ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের সকল গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।

লায় সংজীবন লখন জিয়ায়ে।

শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥

ভাবার্থ: দ্রোণাচল পর্বত থেকে সঞ্জীবনী এনে আপনি অচেতন লক্ষ্মণের প্রাণরক্ষা করেছিলেন; তাতে পরম আনন্দিত হয়ে শ্রী রঘুনাথ আপনাকে প্রেমভরে হৃদয়ে আলিঙ্গন করেছিলেন।

রঘুপতি কীন্হী বহুত বড়ায়ী।

তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভায়ী॥

ভাবার্থ: রঘুপতি শ্রীরাম আপনার অসীম ভক্তির অকুণ্ঠ প্রশংসা করে বলেছিলেন—'হনুমান, তুমি আমার নিকট কনিষ্ঠ ভ্রাতা ভরতের মতোই পরম প্রিয়।'

সহস্র বদন তুম্হরো জস গাবৈঁ।

অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈঁ॥

ভাবার্থ: 'সহস্রমুখ শেষনাগ তোমার যশোগীতি গান করুক'—এই কথা বলে পরমেশ্বর শ্রীরাম আপনাকে স্নেহভরে আলিঙ্গনাবদ্ধ করেছিলেন।

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীসা।

নারদ শারদ সহিত অহীসা॥

ভাবার্থ: সনকাদি ঋষিগণ, ব্রহ্মাদি দেবমণ্ডলী, মহর্ষি নারদ, বিদ্যাদেবী সরস্বতী এবং নাগরাজ অহীশ (শেষনাগ)—সকলেই আপনার অপার্থিব গুণগান করেন।

জম কুবের দিগপাল জহাং তে।

কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥

ভাবার্থ: যমরাজ, ধনপতি কুবের, দশদিকপাল এবং মহাজ্ঞানী কবি ও পণ্ডিতবর্গও আপনার অতুলনীয় মহিমা সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করতে অসমর্থ।

তুম উপকার সুগ্রীবহিঁ কীন্হা।

রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥

ভাবার্থ: সুগ্রীবকে প্রভু শ্রীরামের সঙ্গে মিত্রতায় আবদ্ধ করিয়ে এবং তাঁকে পিতৃপুরুষের হারানো রাজসিংহাসন ফিরিয়ে দিয়ে আপনি পরম উপকার সাধন করেছিলেন।

তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা।

লঙ্কেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা॥

ভাবার্থ: লঙ্কায় আপনার বিজ্ঞ উপদেশ বিভীষণ শ্রদ্ধার সঙ্গে শিরোধার্য করেছিলেন; তার ফলেই তিনি পরবর্তীকালে লঙ্কাপতি হয়েছিলেন—তা সমগ্র বিশ্ব জানে।

জুগ সহস্র যোজন পর ভানূ।

লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥

ভাবার্থ: হাজার যোজন দূরে অবস্থিত মধ্যগগনের প্রচণ্ড সূর্যদেবকে আপনি শৈশবে একটি সুস্বাদু মিষ্টি লাল ফল মনে করে অবলীলায় গ্রাস করতে ধাবিত হয়েছিলেন।

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহীঁ।

জলধি লাঙ্ঘি গয়ে অচরজ নাহীঁ॥

ভাবার্থ: প্রভু শ্রীরামের নামাঙ্কিত পবিত্র অঙ্গুরীয় বদনে ধারণ করে আপনি এক লাফে সুবিশাল মহাসমুদ্র পার হয়েছিলেন—আপনার মতো পরমবীরের পক্ষে এ কোনো আশ্চর্য বিষয় নয়।

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে।

সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে॥

ভাবার্থ: ইহলোকের যে-কোনো দুরূহ, জটিল বা আপাত-অসাধ্য কার্যই হোক না কেন, আপনার অহৈতুকী করুণা ও কৃপাদৃষ্টি থাকলে তা অত্যন্ত সহজ ও সফল হয়ে ওঠে।

রাম দুআরে তুম রখবারে।

হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥

ভাবার্থ: শ্রীরামচন্দ্রের রাজদরবারের আপনি হলেন প্রধান রক্ষক ও দ্বারপাল; আপনার সম্মতি ও অনুগ্রহ ব্যতীত কারও পক্ষে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

সব সুখ লহৈ তুম্হারী সরনা।

তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না॥

ভাবার্থ: যে ভক্ত আপনার পবিত্র চরণে শরণাপন্ন হয়, সে ইহলোকে সকল সুখ-শান্তি লাভ করে। স্বয়ং আপনি যার পরম রক্ষক, তার আর কোনো কিছুরই ভয় থাকে না।

আপন তেজ সম্হারো আপৈ।

তীনোঁ লোক হাংক তে কাঁপৈ॥

ভাবার্থ: আপনার মহাশক্তিময় তেজোদীপ্ত রূপকে ধারণ ও সংবরণ করতে আপনি নিজেই একমাত্র সমর্থ। আপনার কেবল একটি সিংহনাদেই পাতাল-মর্ত্য-স্বর্গ কেঁপে ওঠে।

ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ।

মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥

ভাবার্থ: মহাবীর হনুমানজীর পবিত্র নাম উচ্চারণ বা স্মরণ করামাত্রই ভূত-প্রেত, পিশাচ, ডাকিনী ও যাবতীয় অমঙ্গলকারী অশুভ শক্তি দূরে পলায়ন করে।

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা।

জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥

ভাবার্থ: বীরশ্রেষ্ঠ হনুমানের পুণ্য নাম অবিরাম জপ করলে সকল রোগ-ব্যাধি, দীর্ঘকালীন ব্যাধি ও দেহের সকল দুঃসহ যন্ত্রণা দূরীভূত হয়।

সংকট তে হনুমান ছুড়াবৈ।

মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥

ভাবার্থ: যাঁরা কায়মনোবাক্যে এবং বিশুদ্ধ অন্তরে হনুমানজীকে স্মরণ ও আরাধনা করেন, তিনি তাঁদের জীবনের সকল সংকট, বিপদ ও দুর্যোগ থেকে মুক্ত করেন।

সব পর রাম তপস্বী রাজা।

তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥

ভাবার্থ: সর্বোচ্চ তপস্বী রাজা হলেন পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র; আপনি দাসভাবে তাঁর প্রতিটি দৈব ও মানবিক কাজ নিখুঁতভাবে সিদ্ধ করেছিলেন।

ঔর মনোরথ জো কোঈ লাবৈ।

সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ॥

ভাবার্থ: কোনো ভক্ত যদি কোনো সৎ ও শুভ অভিলাষ নিয়ে আপনার দ্বারে উপস্থিত হয়, তবে সে সেই অনুপম মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে জীবনের পরম সার্থকতা লাভ করে।

চারোঁ জুগ পরতাপ তুম্হারা।

হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥

ভাবার্থ: সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চার যুগেই আপনার প্রভাব ও মহিমা সমভাবে ব্যাপ্ত, এবং আপনার দিব্য জ্যোতি নিখিল বিশ্বকে আলোকিত করে রেখেছে।

সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।

অসুর নিকন্দন রাম দুলারে॥

ভাবার্থ: আপনি সাধু, মহাত্মা ও সজ্জনদের পরম রক্ষক; আপনি অধর্মী অসুরদের ধ্বংসকারী এবং রঘুনন্দনের একান্ত স্নেহের পাত্র।

অষ্ট সিদ্ধি নৌ নিধি কে দাতা।

অস বর দীন জানকী মাতা॥

ভাবার্থ: জনকনন্দিনী মাতা সীতা আপনাকে বরদান করেছিলেন—'তুমি তোমার ভক্তদের অষ্ট সিদ্ধি (অণিমা, মহিমা ইত্যাদি) ও নব নিধি দান করার অনন্ত ক্ষমতার অধিকারী হবে।'

রাম রসায়ন তুম্হরে পাসা।

সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥

ভাবার্থ: রামভক্তি ও রামকৃপার অনুপম অমৃত রসায়ন সদা আপনার নিকট সঞ্চিত থাকে। আপনি চিরকাল রঘুপতির একনিষ্ঠ ভক্ত ও সেবক হয়ে বিরাজ করেন।

তুম্হরে ভজন রাম কো পাবৈ।

জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥

ভাবার্থ: আপনার আরাধনা ও বন্দনা করলে ভক্ত সহজেই শ্রীরামের করুণা লাভ করে, এবং তার জন্ম-জন্মান্তরের সঞ্চিত দুঃখ-বেদনা ও পাপ দূরীভূত হয়।

অন্ত কাল রঘুবর পুর যায়ী।

জহাং জন্ম হরিভক্ত কহায়ী॥

ভাবার্থ: দেহাবসানের পর ভক্ত শ্রীরামচন্দ্রের পরমধাম সাকেতলুকে গমন করে, এবং পুনর্জন্ম হলেও সেখানে সে ভগবানের প্রিয় হরিভক্ত রূপেই পরিচিত হয়।

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরয়ী।

হনুমত সেয়ি সর্ব সুখ করয়ী॥

ভাবার্থ: অন্য কোনো দেব-দেবীর বিশেষ ধ্যান না করেও, একমাত্র সংকটমোচন হনুমানজীর একনিষ্ঠ সেবা করলে ভক্ত জীবনের সকল সুখ ও আনন্দ প্রাপ্ত হয়।

সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা।

জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা॥

ভাবার্থ: যে মানুষ পরম পরাক্রমী মহাবীর হনুমানজীর নাম স্মরণ করে, তার জীবনের সব সংকট বিনষ্ট হয় এবং সকল বেদনা দূর হয়।

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসায়ীঁ।

কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ীঁ॥

ভাবার্থ: হে পরমেশ্বর হনুমানজী! আপনার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক! কৃপাময় সদ্গুরুর ন্যায় আপনি সর্বদা আমার উপর আপনার করুণাবারি বর্ষণ করুন।

জো সত বার পাঠ কর কোঈ।

ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ॥

ভাবার্থ: যে ব্যক্তি ভক্তিভরে এই পবিত্র চালীসা একশত বার পাঠ করবে, সে যাবতীয় পার্থিব বন্ধন ও কারাগারতুল্য সংকট থেকে মুক্ত হয়ে পরম শান্তি ও আনন্দ লাভ করবে।

জো যহ পড়ৈ হনুমান চালীসা।

হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা॥

ভাবার্থ: যে কেউ নিষ্ঠার সঙ্গে এই হনুমান চালীসা পাঠ করবে, তার সকল শুভ সংকল্প সিদ্ধ হবে—এ বিষয়ে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব শিবই প্রত্যক্ষ সাক্ষী।

তুলসীদাস সদা হরি চেরা।

কীজৈ নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা॥

ভাবার্থ: ভক্তকবি তুলসীদাস সদা শ্রীহরির একান্ত সেবক। তাই তিনি প্রার্থনা করেন—'হে নাথ হনুমান! আপনি সীতাপতি রামের সঙ্গে সর্বদা আমার হৃদয়কুটিরে বসবাস করুন।'

সমাপন দোহা

পবনতনয় সংকট হরণ মঙ্গল মূরতি রূপ।

রাম লখন সীতা সহিত হৃদয় বসহু সুর ভূপ॥

ভাবার্থ: হে পবননন্দন, হে সংকটহারী, হে মঙ্গলের মূর্ত প্রতীক! আপনি শ্রীরামচন্দ্র, লক্ষ্মণ ও মাতা জানকীর সাথে চিরকাল আমার হৃদয়ে বাস করুন, হে দেবরাজ!

শ্রী হনুমান চালীসার মাহাত্ম্য ও পরিচয় (Significance of Hanuman Chalisa in Bengali)

জীবনে যখন গভীর সংকট, অনিশ্চয়তা বা অকারণ ভয় অন্তরে বাসা বাঁধে, তখন ভক্তহৃদয় সর্বপ্রথম যাঁর শরণাপন্ন হয়, তিনি হলেন সংকটমোচন শ্রী হনুমানজী। বজরঙ্গবলী কেবল অমিত শৌর্য ও অজেয় শারীরিক শক্তির আধার নন; তিনি নিষ্কাম ভক্তি, অগাধ প্রজ্ঞা, বিনম্রতা এবং অনন্য শরণাগতির এক পরম প্রতীক। তাঁর কৃপাদৃষ্টি থাকলে জগতে কোনো কাজই অসাধ্য থাকে না।

ষোড়শ শতাব্দীতে ভক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত কবি গোস্বামী তুলসীদাস মহারাজ অবধি ভাষায় এই চল্লিশ পদের পবিত্র চালীসা রচনা করেন। সদ্গুরুর শ্রীচরণধূলিতে মনের মুকুরকে নির্মল করার প্রারম্ভিক দোহা থেকে শুরু করে ভক্তের হৃদমাঝারে সীতাপতি রাম ও লক্ষ্মণের সঙ্গে চিরবাসের আকুল প্রার্থনায় সমাপ্তি দোহা পর্যন্ত—চালীসার প্রতিটি শ্লোক ভক্তের জন্য এক অপ্রতিরোধ্য দিব্য রক্ষাকবচ।

বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে শ্রীহনুমানের আরাধনার এক বিশেষ স্থান রয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত বাঙালি কবি কৃত্তিবাস ওঝা রচিত কৃত্তিবাসী রামায়ণ বা শ্রীরাম পাঁচালীর মধ্য দিয়ে হনুমানজীর অকৃত্রিম রামভক্তি, লঙ্কাকাণ্ডে সঞ্জীবনী ঔষধসহ গন্ধমাদন পর্বত তুলে আনা এবং অহিরাবণ বধের রোমাঞ্চকর কাহিনী বাংলার লোকসংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। পশ্চিমবঙ্গের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম এবং সমগ্র বাঙালি সমাজে প্রত্যহ প্রাতে বা সন্ধ্যায় হনুমান চালীসা পাঠ এক পরম পবিত্র ধর্মাচরণ।

শ্রী হনুমান চালীসা পাঠের সঠিক নিয়ম ও বিধি (Recitation Rules & Vidhi)

শ্রী হনুমান চালীসা পাঠের ক্ষেত্রে পবিত্রতা, একাগ্রতা ও সঠিক নিয়ম পালন করলে দ্রুত শুভফল পরিলক্ষিত হয়:

  1. শুদ্ধতা ও বস্ত্রপরিধান: প্রাতঃকালে স্নানান্তে শুদ্ধ চিত্তে লাল, হলুদ বা গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করে পাঠে বসা শ্রেষ্ঠ।
  2. আসন ও দিকনির্দেশ: পূজাঘরে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসা উচিত। আসন হিসেবে লাল পশমি কম্বল বা কুশাসন ব্যবহার করা শাস্ত্রসম্মত।
  3. প্রদীপ ও নৈবেদ্য নিবেদন: শ্রী হনুমানজীর চিত্রপট বা মূর্তির সম্মুখে বিশুদ্ধ ঘিয়ে বা সর্ষের তেলের প্রদীপ প্রজ্বলন করুন। বজরঙ্গবলীর অতি প্রিয় সিঁদুর, লাল জবা ফুল ও তুলসীপত্র নিবেদন করুন। নৈবেদ্য হিসেবে কলা, ভিজে ছোলা, গুড় বা মিষ্টি অর্পণ করুন।
  4. পাঠের ক্রম: প্রথমে বিঘ্নহর্তা শ্রীগণেশ ও প্রভু শ্রীরামচন্দ্রকে স্মরণ ও প্রণাম জানিয়ে ভক্তিভরে প্রারম্ভিক দুটি দোহা, চল্লিশটি চৌপাই এবং অন্তিম সমাপনী দোহা পাঠ করুন।
  5. আরতি ও সমর্পণ: চালীসা পাঠান্তে কর্পূর বা ঘিয়ের পঞ্চপ্রদীপে হনুমানজীর আরতি করুন এবং পাঠকালে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে হওয়া কোনো ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে সার্বিক কল্যাণ কামনা করুন।

পাঠের পবিত্র সংখ্যা ও ফলসিদ্ধি (১, ৭, ১১, ২১, ১০০ এবং ১০৮ বার)

  • ১ বার নিত্য পাঠ: সারাদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মিক সুরক্ষা প্রদান করে।
  • ৭ বা ১১ বার পাঠ: মানসিক উদ্বেগ, অবসাদ ও অকারণ কাল্পনিক ভীতি দূরীভূত করতে সহায়তা করে।
  • ২১ বার পাঠ: মঙ্গলবার বা শনিবার কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা জাগতিক সংকল্প গ্রহণ করে ২১ বার পাঠ করলে বিঘ্ন-বাধা বিদূরিত হয়।
  • ১০০ বার পাঠ (শতবার পাঠ): চালীসাতেই প্রত্যক্ষভাবে বর্ণিত রয়েছে—“জো সত বার পাঠ কর কোঈ, ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ”। গুরুতর সংকট, আইনি জটিলতা, ঋণগ্রস্ততা বা কঠিন সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি পেতে একশত বার অখণ্ড সংকল্প পাঠ অব্যর্থ ফলদান করে।
  • ১০৮ বার মহাঅনুষ্ঠান: শনির সাড়ে সাতি, ধাইয়া, রাহুর দশা বা কোনো জটিল গ্রহদোষ থেকে মুক্তি এবং সমগ্র মনোবাসনা পূর্ণ করতে ১০৮ বার পাঠের বিশেষ মহিমা রয়েছে।

শ্রী হনুমান চালীসা পাঠের অলৌকিক লাভ ও উপকারিতা (Benefits of Recitation)

নিয়মিত ও ভক্তিসহকারে শ্রী হনুমান চালীসা পাঠ করলে ভক্তের জীবনে যেসব অলৌকিক কল্যাণ সাধিত হয়:

  • ভয় ও নেতিবাচক শক্তির বিনাশ: “ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ, মহাবীর জব নাম সুনাবৈ”—বজরঙ্গবলীর নামোচ্চারণে কুদৃষ্টি, তান্ত্রিক অভিচার, দুঃস্বপ্ন এবং অশুভ শক্তি নিমেষে অপসৃত হয়।
  • রোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি নিরাময়: “নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা, জপত নিরন্তর হনুমত বীরা”—অবিরাম জপে শারীরিক জটিল অসুস্থতা ও মানসিক অশান্তি থেকে উপশম মেলে।
  • কঠিন কাজের সহজ সমাধান: “দুর্গম কাজ জগত কে জেতে, সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে”—কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনের যে-কোনো স্থবির হয়ে পড়া জটিল কার্য হনুমানজীর কৃপায় অনায়াসে সফল হয়।
  • বুদ্ধি, বিদ্যা ও মেধার বিকাশ: “বল বুধি বিদ্যা দেহু মোহি, হরহু কলেশ বিকার”—শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ চালীসা পাঠ করলে প্রখর একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করে।
  • শনির সাড়ে সাতি ও গ্রহদোষের শান্তি: শনিবার চালীসা পাঠে শনিদেবের কুপ্রভাব দূরীভূত হয়ে জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

পবনপুত্র হনুমান ও শ্রীরামচন্দ্রের পূর্ণ কৃপা লাভের জন্য চালীসার পাশাপাশি এই পবিত্র স্তোত্রগুলিও পাঠ করতে পারেন:

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

प्र.শ্রী হনুমান চালীসা প্রতিদিন কতবার পাঠ করা উচিত?

দৈনন্দিন পূজায় ১, ৩, ৭ বা ১১ বার পাঠ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। কোনো বিশেষ সংকট মুক্তি বা মনস্কামনা পূরণের জন্য মঙ্গলবার বা শনিবার ১০০ বার ('জো সত বার পাঠ কর কোঈ') অথবা ১০৮ বার সংকল্পপূর্বক পাঠ করার শাস্ত্রীয় প্রথা রয়েছে।

प्र.হনুমান চালীসা পাঠ করার শ্রেষ্ঠ সময় কোনটি?

প্রভাতে ব্রাহ্মমুহূর্ত অথবা সূর্যোদয়ের সময় এবং সন্ধ্যায় গোধূলি বা প্রদোষকাল হনুমান চালীসা পাঠের জন্য সর্বাধিক প্রশস্ত। শান্ত পরিবেশে বিশুদ্ধ চিত্তে পাঠ করলে দ্রুত শুভফল প্রাপ্ত হয়।

प्र.মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমান চালীসা পাঠের বিশেষ তাৎপর্য কী?

মঙ্গলবার ও শনিবার শ্রী হনুমানজীর অত্যন্ত প্রিয় দিন। এই দিনগুলিতে বজরঙ্গবলীকে সিঁদুর, জবা ফুল নিবেদন করে সর্ষের তেল বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে চালীসা পাঠ করলে শনির সাড়ে সাতি, কণ্টক শনি এবং গ্রহপীড়া প্রশমিত হয়।

प्र.মহিলারা কি হনুমান চালীসা পাঠ করতে পারেন?

অবশ্যই, মহিলারা পরম ভক্তি ও শুদ্ধাচারে হনুমান চালীসা পাঠ করতে পারেন। হনুমানজী ভক্তদের সন্তানের ন্যায় স্নেহ ও মাতার ন্যায় শ্রদ্ধা করেন। নিষ্পাপ ও শুদ্ধ ভক্তিতে কোনো লিঙ্গভেদ নেই।

प्र.বাংলায় কৃত্তিবাসী রামায়ণের সঙ্গে হনুমান আরাধনার সম্পর্ক কী?

মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝা রচিত কৃত্তিবাসী রামায়ণে (শ্রীরাম পাঁচালী) হনুমানজীর নিঃস্বার্থ রামভক্তি ও গন্ধমাদন পর্বত নিয়ে আসার বীরত্ব গাথা বাংলার ঘরে ঘরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রদ্ধার সঙ্গে পঠিত হয়ে আসছে।

प्र.রোগ-ব্যাধি ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কোন চৌপাই জপ করা উচিত?

দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শারীরিক ব্যাধি ও কষ্ট নিবারণের জন্য 'নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা, জপত নিরন্তর হনুমত বীরা'—এই ২৫তম চৌপাইটি প্রতিদিন ১০৮ বার জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ী বলে বিশ্বাস করা হয়।

प्र.ভয়, দুঃস্বপ্ন ও নেতিবাচক শক্তি দূর করতে কোন চৌপাই পাঠ করবেন?

অকারণ ভয়, দুঃস্বপ্ন এবং অশুভ নেতিবাচক শক্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে 'ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ, মহাবীর জব নাম সুনাবৈ'—এই ২৪তম চৌপাইটি পাঠ করলে তৎক্ষণাৎ দিব্য সুরক্ষা কবচ ও আত্মবিশ্বাস লাভ হয়।

Free PDF DownloadA4 প্রিন্টযোগ্য

📄 শ্রী হনুমান চালীসা PDF ডাউনলোড করুন

নিত্য পূজার জন্য উচ্চমানের প্রিন্টযোগ্য PDF (দোহা এবং ৪০টি চৌপাই সহজ বাংলা অর্থ সহ)